চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল নির্মাণে সিঙ্গাপুরের প্রস্তাব, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও দক্ষ জনশক্তি জোরদারের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল নির্মাণে সিঙ্গাপুরের প্রস্তাব, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও দক্ষ জনশক্তি জোরদারের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরে একটি আধুনিক ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সফর শেষে দেশে ফিরে এ বিষয়ে দুই দেশের প্রাথমিক আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সফর সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত অবহিত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে বে টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবটি দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। টার্মিনালটি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে এবং আঞ্চলিক সমুদ্র যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৌশলগত এই বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের মতো অভিজ্ঞ দেশের বিনিয়োগ বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য সম্প্রসারণনীতির অংশ।
সফরকালে সিঙ্গাপুরের শ্রমমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সে দেশে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। প্রথাগত কাজের বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোতে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের জনশক্তিকে সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সিঙ্গাপুরের পাল্লা ভারী। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে এই বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সফরকালে প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের একটি সর্বাধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রকল্প পরিদর্শন করেন, যা বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাপানকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরসহ প্রধান অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের বন্দর প্রস্তাব ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মেগা অবকাঠামো খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ