জাতীয় ডেস্ক
সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম জনগণের সামনে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সংযোগ সুদৃঢ় করাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
রবিবার সকালে সচিবালয়ে পৌঁছালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে ৬ নম্বর ভবনে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময়ে বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নৈতিক অবস্থান বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। নীতিগত জায়গা ঠিক রেখে এবং অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রশাসনকে গতিশীল রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক সংগ্রামে গণমাধ্যমের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। নানামুখী বিধিনিষেধ ও চাপের মধ্যেও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ফলেই অনিয়ম, অব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার তথ্য জনসমক্ষে এসেছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে তথ্য প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে সাংবাদিকদের অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নীতির বিরোধিতা করে আন্দালিব রহমান পার্থ স্পষ্ট করেন, সরকারের কোনো বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে না। বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিচার বিভাগ, সংসদ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে যে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়ের প্রয়োজন। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমেই যাতে অন্যায় প্রশ্রয় না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভুল তথ্য, গুজব এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়কে আরও আধুনিক ও সৃজনশীল কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান দ্রুত আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ (বিএফডিসি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মকর্তারা অংশ নেন।


