জাতীয় ডেস্ক
উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। রবিবার সকালে মোংলার দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীদের মাঝে সুপেয় পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পানির ট্যাংক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী এবং সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝেও পর্যায়ক্রমে এসব পানির ট্যাংক হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নতমানের পানির ট্যাংক বিতরণ সম্পন্ন হয়।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, তীব্র লবণাক্ততাপ্রবণ উপকূলীয় মোংলা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদে দীর্ঘ দিন ধরে সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট বিদ্যমান। প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো ক্রমান্বয়ে লবণাক্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি খাবার পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সংকট টেকসইভাবে নিরসন এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি কার্যকর উপায়ে সংরক্ষণ করে সারা বছরের পারিবারিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিক এই বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল ব্যক্তিপর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগই নয়, সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাকৃতিক ও উন্মুক্ত সুপেয় পানির উৎস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এলাকার সরকারি পুকুরগুলো পুনঃখননের বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপকূলের কোনো মানুষ যাতে নিরাপদ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা দুর্ভোগের সম্মুখীন না হন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং ভূ-উপরিস্থ পানির লবণাক্ততা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পরিবারের মাঝে টেকসই ট্যাংক সরবরাহ এবং সরকারি জলাধারগুলোর সংস্কার স্থানীয় জনপদের সুপেয় পানির অভাব লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
উক্ত ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে অন্যান্যদের মাঝে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান জনিসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।


