মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করাই প্রথম অগ্রাধিকার: বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী

মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করাই প্রথম অগ্রাধিকার: বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মধ্যকার কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দূর করাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফেরাতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সনাতন আমলাতান্ত্রিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবনিযুক্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয় ও অধস্তন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়। এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নবাগত মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে স্বাগত জানান।
প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দাপ্তরিক প্রয়োজনে রদবদল একটি স্বাভাবিক এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নতুন নেতৃত্বের অধীনে একটি সুসংগঠিত টিম গঠনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের স্বার্থে তিনি ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে জানান, প্রতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে অন্তত একদিন তিনি সচিবালয়ের বাইরে সরাসরি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কিংবা জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কাজের জটিলতাগুলো সরাসরি চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধানের পথ তৈরি হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রশাসনে জবাবদিহিতা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। ভালো ও নিষ্ঠাবান কাজের জন্য যেমন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে, তেমনি দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা অদক্ষতার ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। গতানুগতিক মানসিকতা পরিহার করে সেবামুখী ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার রূপরেখাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় তেজস্ক্রিয় ও সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত সামগ্রী নিরাপদ ও দ্রুত পরিবহনের সুবিধার্থে এ বিমানবন্দরে শিগগিরই ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া যশোর বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বগুড়া বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে বর্তমানে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
পর্যটন খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা নবনিযুক্ত মন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ