অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক নির্মূলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৪৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ পয়েন্ট এবং সন্দেহভাজন স্থানে একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদক চোরাকারবারি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী অভিযানের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নগরীর অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপির দেওয়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মিরপুর বিভাগে সর্বাধিক ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল বিভাগে ৬৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৮ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৭ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, গুলশান বিভাগে ৪৫ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৮ জন এবং রমনা বিভাগে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেফতার করে।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক ও অপরাধের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ কেজি গাঁজা। এছাড়া মাদক সেবন ও কারবারে ব্যবহৃত তিনটি ফয়েল পেপার, পাঁচটি গ্যাস লাইট, দুটি ইয়াবা সেবনের পাইপ, একটি ইয়াবা সেবনের কর্ক এবং দুটি কয়েন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত অন্যান্য মালামালের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মোবাইল ফোন, দেড় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল এবং একটি মোটরসাইকেল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত মালামালের উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে কোনো ছিনতাই বা চুরির চক্র জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর জননিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াকরণসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


