রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তবে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ ও অলিগলির সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশাকে নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের অনুমতি পাবে না। সড়ক পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং যান চলাচল নিরাপদ করতে এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বহুল প্রতীক্ষিত নীতিমালাটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুত এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এই নীতিমালা কার্যকর হলে ব্যাটারিচালিত রিকশা খাত একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে।
নতুন নীতিমালায় ই-রিকশার মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের প্রযুক্তিগত প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ছাড়পত্র ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে না। সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় পৌরসভাগুলো যৌথভাবে এই নিবন্ধন প্রদান করবে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঢাকায় নিবন্ধিত হতে হলে প্রতিটি ই-রিকশা অবশ্যই বুয়েট বা অনুমোদিত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টের ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। নীতিমালায় পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনাকারীদের স্থানীয় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়া যত্রতত্র গড়ে ওঠা ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে বিশেষ নির্দেশনা রাখা হচ্ছে, যাতে অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী এসব যানবাহন উৎপাদিত হয়।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে এবং তীব্র যানজট নিরসনে জোনিংভিত্তিক চলাচলের অভিনব পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে মোট আটটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করা হবে এবং নিবন্ধিত প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রঙের কোড নির্ধারণ করা হবে। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন রুটে কোন ই-রিকশা চলবে তা নির্ধারণ করা হবে এবং প্রতিটি যানে থাকবে আধুনিক জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থা, যাতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারে। প্রধান সড়কে আলাদা রিকশা লেন তৈরি করা সময়সাপেক্ষ ও দুরূহ হওয়ায় মূল সড়কে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রেখে কেবল অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত রিকশা নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছিল। সরকারের এই সময়োপযোগী নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


