গ্রিস ও ইসরায়েলের মধ্যে ৩৪০ কোটি ডলারের সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে

গ্রিস ও ইসরায়েলের মধ্যে ৩৪০ কোটি ডলারের সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গ্রিস ও ইসরায়েল প্রায় ৩৪০ কোটি ডলারের একটি বিশাল সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত করতে যাচ্ছে। এর আওতায় দুই দেশ যৌথভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করবে। সোমবার ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে এ-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নামকরণ করা হয়েছে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’। এর মূল লক্ষ্য হলো আকাশপথে তৈরি হওয়া যেকোনো ধরনের হুমকি দ্রুত শনাক্ত, প্রতিহত ও ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করা। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন আধুনিক আকাশপথের হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রিসের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৩ জুলাই গ্রিস সরকারের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পরিষদ তথা কাইসিয়া এই সামরিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। গ্রিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ মূলত গ্রিসের বর্তমান সামরিক কাঠামোর সঙ্গে অত্যাধুনিক ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় গ্রিসের সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশটির কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও দ্বীপাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে মোতায়েন করা ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলে উদ্ভাবিত বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মও এই যৌথ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে। এর ফলে গ্রিস একক কোনো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশসীমা সুরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করবে।
বিশেষ করে গ্রিসের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল ও ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জ ও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য আকাশপথের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই বহুমুখী ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। দেশটির ভাণ্ডারে থাকা আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। গ্রিসের সঙ্গে এই নতুন চুক্তির ফলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সঙ্গে গ্রিক সামরিক অবকাঠামোর এক কৌশলগত মেলবন্ধন তৈরি হবে।
৩৪০ কোটি ডলারের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রিসের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় ও ইউরোপীয় অঞ্চলে গ্রিস ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বর্তমান সময়ে ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রমাণিত হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা খাত পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রিসের এই নতুন সামরিক উদ্যোগ মূলত সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ