ভোলা ও মূল ভূখণ্ডকে সড়কপথে যুক্ত করতে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা

ভোলা ও মূল ভূখণ্ডকে সড়কপথে যুক্ত করতে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ডেস্ক
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সরাসরি ভোলার ইলিশা পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (কাঁচপুর)-ভোলা (ইলিশা) সরাসরি ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ জেলার মানুষকে সম্পূর্ণভাবে নৌপথনির্ভর হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার সড়ক ও সেতু নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ভোগান্তি লাঘবে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট থেকে এই নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরীক্ষামূলক চলাচলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক চাপ ও আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামক দুটি ফেরি এই রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। কাঁচপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত পৌঁছাতে ফেরিগুলোর প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগছে। সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক সাড়া ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এই রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে ফেরির ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং ফেরিঘাটগুলোতে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথ এবং ওয়াটার বাস সার্ভিসকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের সুসমন্বয় করা গেলে এসব সেবা আরও জনপ্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নৌপরিবহন খাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে ও বন্যায় যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর আশপাশের এলাকায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারীসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ