ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শরিয়াবিধান অনুসরণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শরিয়াবিধান অনুসরণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ধর্ম ডেস্ক
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে। শরিয়া বা আল্লাহর নির্ধারিত জীবনবিধান কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবজীবনের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার এক শাশ্বত পথনির্দেশ। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরিয়াবিধান মেনে চলা একজন মুমিনের ঈমানের দাবি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
শরিয়া শব্দের অর্থ আল্লাহ প্রদত্ত জীবনবিধান, যার উৎস মানুষের কোনো মনগড়া মতবাদ নয়, বরং মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। শরিয়া পালনের অর্থ কেবল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা বা দণ্ডবিধি মানা নয়, বরং ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন থেকে শুরু করে পারিবারিক দায়িত্ব পালন, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা। ইসলামে মানুষের জান, মাল, সম্মান ও অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শরিয়াবিধান মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সমাজে অনেক সময় ইসলামকে কেবল মসজিদ বা নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। অথচ শরিয়ার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা বজায় রাখা, হালাল উপার্জনের পথ অবলম্বন করা, পরিবারে দায়িত্ব ও ভালোবাসা রক্ষা করা এবং মানুষের হক আদায় করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিফলিত হয়। মানুষের প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর শরিয়ার বিধান নির্ভরশীল নয়; বরং আল্লাহ ও রাসুলের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই মুমিনের পরিচয় পূর্ণতা পায়।
ইসলামের বিধান পালনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়াবাড়ি বা নিজের সুবিধার্থে শরিয়াকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ মানুষের জন্য সহজতা চান এবং শরিয়ার মূল লক্ষ্য হলো মানবজাতির কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই শরিয়াবিধান যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হলে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং কোনো জটিল বিষয়ে অভিজ্ঞ ও যোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হতে হবে। জীবনের প্রতিটি স্তরে শরিয়ার বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ধর্ম শীর্ষ সংবাদ