বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি খাত এবং শ্রমবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এছাড়া বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতি নিয়েও উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিগত দিনগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বহুমুখী চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশকে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা জরুরি। বিশেষ করে ক্যানবেরার আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জবাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার সুসান রাইল। তিনি জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় এবং তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়া সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামেও এই বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য দিকের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফারদার এডুকেশন (টাফে) প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে, বাংলাদেশি কেয়ারগিভার বা পরিচর্যাকারীদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও উন্নত প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, এ ধরনের পেশাগত প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিদেশে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উভয় দেশের মধ্যকার সহযোগিতার পরিধি কেবল শ্রমবাজার ও শিক্ষার্থেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও অস্ট্রেলিয়া জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছে। সাক্ষাত্কারের শেষ পর্যায়ে হাইকমিশনার স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা ও অংশীদারত্ব বজায় রাখার জোরালো আশ্বাস দেন। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বহুমুখী অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।


