প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের নিয়ে লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্সের আয়োজন করেছে বিসিবি। গত শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয় ৬ দিনের এই কোর্স। এই কোর্সে অংশ নিয়ে তারা একদিকে নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞান বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে তৈরি করছেন ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বিকল্প পথ। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত কোর্সটির বিভিন্ন সেশন নিচ্ছেন জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সোহেল ইসলাম ও নাভিদ নেওয়াজ।
এতে অংশ নিচ্ছেন ৩২ জন বর্তমান ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার আরাফাত সানি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও ফজলে রাব্বিরা। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখনো জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলছেন। ফলে কোর্সে শেখা বিষয়গুলো অবসর-পরবর্তী সময়ের জন্য যেমন কাজে লাগবে, তেমনি বর্তমান খেলোয়াড়ি জীবনেও এর ব্যবহার দেখছেন তারা।
বাংলাদেশের হয়ে সাতটি টেস্ট খেলা কামরুল ইসলাম রাব্বির কাছেও কোর্সটির গুরুত্ব সেখানেই। এখনও কয়েক বছর ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা থাকলেও মাঠের বাইরের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন এই পেসার। নাভিদ নেওয়াজের সেশন শুরুর আগে জাগো নিউজকে রাব্বি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি খুবই ভালো একটি কোর্স এবং আমরা এখান থেকে অনেক উপকৃত হবো।’
খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চান রাব্বি। তবে সেটা কোচ হিসেবেই হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা দেখছেন না তিনি, ‘আরও তিন-চার বছর ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা আছে। ফলে এই কোর্স থেকে যেটা শিখবো ক্রিকেটার হিসেবে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।’
কেন লেভেল ওয়ানে নাম লেখালেন, সেটির উত্তরেও শেখার বিষয়টিই সামনে আনছেন রাব্বি। তার মতে, কোচিংয়ের মৌলিক ধারণা একজন ক্রিকেটারের নিজের খেলাকেও সমৃদ্ধ করতে পারে, ‘কোর্সটি করার মূল কারণ আরও বেশি শেখা। লেভেল ওয়ান ক্রিকেটের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। আর ক্রিকেটের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
শুধু অবসরপ্রাপ্ত বা অবসরের কাছাকাছি ক্রিকেটার নয়, বর্তমান খেলোয়াড়দেরও কোচিং শিক্ষায় যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বিসিবি। কোর্স পরিচালনাকারী এক কোচের মতে, একজন ক্রিকেটারের মাঠের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোচিংয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যোগ হলে তার প্রভাব আরও বড় হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কোচ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের কোচিংয়ে আগ্রহী হওয়াটা উৎসাহব্যঞ্জক। তাদের খেলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোচিংয়ের জ্ঞান যুক্ত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক উপকৃত হতে পারে।’
এবারের কোর্সে শুধু কোচিংয়ের সাধারণ ধারণা নয়, খেলোয়াড় তৈরির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বায়োমেকানিক্স, অনুশীলন ও কর্মসূচি পরিকল্পনা, স্কিল অ্যাকুইজিশন, দলীয় পরিকল্পনা, ক্রিকেটারের টেকনিক মূল্যায়ন এবং ভুল টেকনিক সংশোধনের পদ্ধতি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলা আরাফাত সানি, কামরুল রাব্বি ও ফজলে রাব্বির মতো ক্রিকেটারদের জন্য এসব বিষয় এখনই কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন ওই কোচ।
তিনি বলেন, ‘তাদের উন্নতির জন্য এটি দারুণ একটি সুযোগ। এই কোর্স তাদের ক্রিকেটীয় জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করবে। ফলে তারা নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে পারবে, একই সঙ্গে সতীর্থদেরও সহযোগিতা করতে পারবে।’
চলতি বছর কোচিং শিক্ষায় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এরই মধ্যে লেভেল টু ও লেভেল থ্রি কোর্সও আয়োজন করেছে বিসিবি। ১৫ থেকে ২০ জুলাই শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া লেভেল টু কোর্সে ছিলেন ৩২ জন। আইসিসির লেভেল থ্রি মাস্টার এডুকেটর ও নেপালের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বিনোদ কুমার দাস কোর্সটি পরিচালনা করেন। এর পরের লেভেল থ্রি কোর্স সফলভাবে শেষ করেন ৩০ জন। সাবেক বাংলাদেশ ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস, আব্দুর রাজ্জাক, রাজিন সালেহ ও হান্নান সরকারও ছিলেন সেই দলে।
গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, মাঠের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর যাতে ক্রিকেটারদের নতুন করে পথ খুঁজতে না হয়, সেই প্রস্তুতিই আগে থেকে তৈরি করে দিতে চায় বিসিবি।
বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা লেভেল ওয়ান কোর্স করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের একটি সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাদের কেউ কেউ হয়তো শিগগিরই খেলা থেকে অবসর নেবেন এবং কোচিংয়ে চলে যাবেন। তাই ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের জন্য এটি তাদের প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি তাদের নিজেদের খেলাকেও উন্নত করতে পারে।’

