দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলের হারটাকে বাংলাদেশের জন্য কঠিন বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন কোচ পিটার বাটলার। তবে ফলের চেয়েও তাঁর কাছে বেশি উদ্বেগের বিষয়, একটি গোল হজম করার পর দলের রক্ষণ যেভাবে ভেঙে পড়ে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের এই দুর্বলতাকে রূপক অর্থে ‘ফুটো তাঁবু’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চারবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় এশিয়ার শক্তিশালী দলটি। এর মধ্যে মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় লাল-সবুজের দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য কিছুটা সাহসী ফুটবল খেলেছিল বাংলাদেশ। বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টাও করেন ঋতুপর্ণা, আনিকা, মনিকারা। পরপর দুটি ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার পরই যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে।
৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে তৃতীয় গোলটি করে দক্ষিণ কোরিয়া। জি সুউনের থ্রু পাস ধরে বদলি হিসেবে নামা চোই ইউরি এগিয়ে আসা গোলরক্ষক রুপনাকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান। এরপর ৭৭ মিনিটে হিউন সুলগির উঁচু ক্রস থেকে জি সুউন গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে চোই ইউরি ব্যবধান বাড়ান ৫-০।
মাত্র ১৪ মিনিটের এই ধস নিয়েই ম্যাচ শেষে সতর্ক করেছেন বাটলার। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গোল হজমের পর দ্রুত আরও গোল খেয়ে ফেলা।
বাটলার বলেন, ‘সত্যি বলতে ৬-০ ব্যবধানের হারটা একটু বেশিই কঠোর মনে হয়েছে। তবে আমরা এমন দল, যারা একটি গোল হজম করলে পরপর আরও একাধিক গোল খেয়ে বসি। কখনও আমরা রক্ষণভাগে খুব শক্ত থাকি, আবার কখনও আমাদের ফুটো তাঁবুর মতো অবস্থা হয়। সহজেই গোল দিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ।’
তবে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এমন ফলে তিনি খুব বেশি হতাশ নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ। বরং দলের এই দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কো ইউ-জিন বাংলাদেশের জালে ষষ্ঠ গোলটি করেন। ফলে ৬-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ঢুকেছে ১৬ গোল। বিপরীতে লাল-সবুজের মেয়েরা এখনো একটি গোলও করতে পারেনি।
তবে টানা দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয় পেলে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

