বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ১৮ হাজার ২৫৫টি। এই তালিকায় ১৩ হাজার ৮০৭টি প্রকাশনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
স্কোপাসের পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮টি। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা রয়েছে ১৮ হাজার ২৫৫টি, যা মোট প্রকাশনার প্রায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বুয়েটের চেয়ে ঢাবির প্রকাশনা ৪ হাজার ৪৪৮টি বেশি।
গবেষণা প্রকাশনার এই পরিসংখ্যান দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত ও প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই অর্জন আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
এ অর্জন সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও অবদান রয়েছে। স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকা শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিরলস গবেষণারই প্রতিফলন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা গবেষণার গুণগত মান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী জ্ঞানচর্চার পরিসর আরও সম্প্রসারণ করতে চাই। এই লক্ষ্যে গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার দৃশ্যমানতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।"
উপাচার্য এই অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, স্কোপাস হলো একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা-তথ্যভান্ডার ও অ্যাবস্ট্রাক্ট-সাইটেশন ডেটাবেস। যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, সম্মেলন ও অন্যান্য গবেষণা প্রকাশনার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। গবেষণার প্রকাশনা, উদ্ধৃতি এবং গবেষণার প্রভাব মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষক এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে থাকেন।

