রাজধানীর পূর্বাচল সরকারি প্লট বরাদ্দ মামলায় শেখ হাসিনাসহ চারজনের কারাদণ্ড

রাজধানীর পূর্বাচল সরকারি প্লট বরাদ্দ মামলায় শেখ হাসিনাসহ চারজনের কারাদণ্ড

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালত। একই রায়ে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে চার বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকে পৃথকভাবে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিচারক মো. রবিউল আলম রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে মামলার অন্যান্য আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা এই দুই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। মামলাগুলোতে শেখ রেহানার আরেক মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তদন্তে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নামও উঠে আসে। মামলাগুলোর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতে শুনানি সম্পন্ন হয়।

মামলাগুলোতে প্রধান অভিযোগ ছিল সরকারি সম্পদের অনৈতিক বরাদ্দ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা সরকারি প্লট বরাদ্দ প্রদানে নিয়ম ও নীতিমালা উপেক্ষা করেছেন এবং স্বার্থপর উদ্দেশ্যে সম্পদ বণ্টন করেছেন।

আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ বরাদ্দ ও দুর্নীতিবিরোধী নীতি প্রণয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। ফলে এ রায়ের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে আপিল প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলাদেশে সরকারি সম্পদ বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলাগুলোতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন ও প্রাক্তন শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এমন রায় বিরল। আইন ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রতিফলন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের রায় ঘোষণার সময় আদালত সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, সকল অভিযুক্তকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য যথাযথভাবে দণ্ডিত করা হয়েছে এবং রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

রায় ঘোষণার পর আদালতের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়। সূত্রের খবর, মামলার শুনানি চলাকালীন বিস্তারিত প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে নথি, সাক্ষ্য ও সরকারি দলিল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রায় অন্য সরকারি সম্পদ বরাদ্দ মামলার জন্যও প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।

এছাড়া, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ রায় দেশের আইনি ব্যবস্থায় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ