আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় যৌথ অভিযানে একটি বাসা থেকে গ্রেনেড, ককটেল বোমা, গানপাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ওই বাসা থেকে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সামরিক মানের বিস্ফোরক এবং বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য, যা দিয়ে বোমা তৈরি করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের শেরে বাংলা ক্যাম্প সূত্র জানায়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্পের একটি দল ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাড়িটির ভেতর থেকে দুটি লাইট গ্রেনেড, ১১টি ককটেল বোমা, ১২৫ গ্রাম গানপাউডার, বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৯ কেজি রাসায়নিক দ্রব্য এবং ৭ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে ওই বাসা থেকে মুকতা আক্তার (২৫), নাজমা আক্তার (৪০) ও কাকলী আক্তার (৩১) নামে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা পলাতক যুবলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি মাইনউদ্দিন ইসলাম শুভর স্ত্রী ও বোন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, মাইনউদ্দিন ইসলাম শুভর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা জানিয়েছেন, মাইনউদ্দিন ইসলাম শুভ দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের আরেক অভিযুক্ত ব্যক্তি ফয়সাল করিম দাউদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ফয়সাল করিম দাউদ আলোচিত ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মাইনউদ্দিন ইসলাম শুভর মালিকানাধীন ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মাইনউদ্দিন ইসলাম শুভ ও ফয়সাল করিম দাউদ একসঙ্গে অবৈধভাবে ভারত গমন করেন। যাওয়ার আগে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যগুলো তারা নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে রেখে যান। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য মজুত থাকা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে লাইট গ্রেনেড ও ককটেল বোমার মতো অস্ত্র জনবহুল এলাকায় ব্যবহার হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিন নারী ও উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক, রাসায়নিক দ্রব্য এবং মাদকদ্রব্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


