ইডিসিএলের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ইডিসিএলের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আইন আদালত ডেস্ক

ঢাকা: ইডিসিএল (IDCOL) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আ. সামাদ মৃধার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের সহকারী রেকর্ড কর্মকর্তা রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, মো. আ. সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন ওপেন সোর্স এবং গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ক্রয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য করে অর্থ আত্মসাৎ করে তা বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরণের পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি বিদেশে চলে যান, তবে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে আদালত তাকে নিষিদ্ধ করেছেন। এই আদেশ অনুসন্ধান সংস্থাকে অভিযুক্তের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বাইরে পালিয়ে গেলে তদন্ত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে এবং সম্ভাব্য আর্থিক দূর্নীতির সব তথ্য সঠিকভাবে উদঘাটন করা কঠিন হয়ে যায়। সুতরাং, বিদেশে যাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অনুসন্ধানের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক আর্থিক দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তাধীন। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান অব্যাহত থাকায় আদালত দেশের বাইরে পালানোর সম্ভাবনা প্রতিহত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, ইডিসিএল অর্থনৈতিক খাতে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে তহবিল প্রদান করে থাকে। এমডি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ দেশের বিনিয়োগ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, আদালতের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি রক্ষা করার দিকেও ইঙ্গিত করছে।

বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, অনুসন্ধান সংস্থা যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ যাচাই ও প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এ ধরনের পদক্ষেপ আদালত ও তদন্ত সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ঘটনা বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ