প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ভোলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার

প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ভোলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার

 

আইন আদালত ডেস্ক

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মো. রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাকিব ও একই এলাকার মো. জুয়েল এবং উপজেলার মাওলানাকান্দি এলাকার আল আমিন সম্রাট। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট দিনে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা প্রতিবেদন ও আলামত সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সম্ভাব্য সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার করা হবে।

তজুমদ্দিন উপজেলায় এ ধরনের ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হলে তা অধিকতর গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, প্রমাণিত অপরাধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের লক্ষ্যে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সমাজে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ