অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংকট নিরসনে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৈঠকের শুরুতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র সম্বলিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে অভ্যন্তরীণ ও আমদানিকৃত জ্বালানির বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা সম্প্রসারণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অগ্রগতি কমিটির সামনে পেশ করা হয়। কমিটি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে।
আলোচনায় কমিটির সদস্যরা স্থানীয় খনি থেকে জ্বালানি উত্তোলন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাপেক্সসহ দেশীয় সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, কমিটির এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি খাতের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ কমিটির সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, মো. আবুল হাসনাত এবং মোহাম্মদ আবুল হাসান অংশ নেন। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশেষ কমিটির মাধ্যমে জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি টেকসই সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব হবে। ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না করে কীভাবে জ্বালানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন এই কমিটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে খসড়া সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।


