মরদেহ ফেরতের সরকারি উদ্যোগ সম্প্রসারণের ঘোষণা

মরদেহ ফেরতের সরকারি উদ্যোগ সম্প্রসারণের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফেরানোর জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধনকালে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো মৃত্যুবরণ করলে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। অতীতে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও কিছু সময় ধরে এটি স্থগিত ছিল। বর্তমানে বিষয়টি পুনঃসক্রিয় করা হচ্ছে এবং বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ পরিবহনের জন্য আগে ঢাকা থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে তিনটি ফ্রিজিং গাড়ি ব্যবহার করা হতো। উদ্বোধনের মাধ্যমে আরও দুটি নতুন ফ্রিজিং গাড়ি যোগ করা হয়েছে, যা দেশে মরদেহ ফেরতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। এ গাড়িগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত এবং নিরাপদভাবে দেশে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসফেরতদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে থাকে। তিনি বলেন, বর্তমান ঋণ পরিমাণ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, যারা স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানসহ কিছু দেশে যান, তাদের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়। এই সুবিধাগুলোর সম্প্রসারণের ওপরও প্রাথমিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।

নুরুল হক নুরের এই উদ্যোগ প্রবাসী কর্মীদের জন্য জীবন-নিরাপত্তা এবং আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনার এই ব্যবস্থা প্রবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে, এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা বছরে কয়েক লাখের বেশি, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। তাদের মধ্যে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের কাছে মরদেহ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবিক দাবি হিসেবে আলোচিত। নতুন ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স এবং সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ সুবিধা প্রবাসফেরতদের দেশে পুনর্বাসন, ব্যবসা-সংস্থান ও শিক্ষা উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করছে। সরকারি নীতি অনুযায়ী এই ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে আরও বেশি প্রবাসী স্বদেশে ফিরে নিজস্ব উদ্যোগ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং তাদের পরিবারগুলো দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ