বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথকভাবে বনানীর সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানানোর সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।
প্রত্যেক অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক রীতিতে সম্মান প্রদর্শন করে। শ্রদ্ধা জানানোর পর বেজে ওঠে করুণ সুরের বিউগল, যা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করে। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। এ দিনটি স্মরণ করে ২০০৯ সালের পিলখানার নৃশংস ঘটনা, যেখানে সাবেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যা হন। এই হত্যাযজ্ঞে সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককেও প্রাণ হারাতে হয়। পরের দিনও এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত থাকে।
সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তারা প্রতিবারের মতো এবারের অনুষ্ঠানে শহীদ সেনাদের স্মরণে আয়োজন করেন নানা শ্রেণীর শ্রদ্ধা ও আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানটি দেশের ইতিহাসে নৃশংস হত্যার স্মৃতি সতেজ রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বকেও প্রতিফলিত করে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সময় শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগ এবং দেশের প্রতি তাদের অবদানকে স্মরণ করেন। পাশাপাশি, এই দিনটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানে সামরিক রীতিনীতি, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিউগলের করুণ সুর এবং মোনাজাত—all মিলিতভাবে এক ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে শহীদ সেনাদের অবদান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে সম্মানিত হচ্ছে।
এছাড়া, পিলখানার ঘটনা এবং তার প্রভাব এখনো বাংলাদেশের সামরিক এবং বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণ ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের এই আয়োজন দেশবাসীর জন্য অতীতের শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশের সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার বার্তা বহন করে।
শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানে বোঝানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়।


