ক্রীড়া ডেস্ক
গতকাল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি ক্রীড়া উন্নয়ন ও ফুটবল সম্প্রসারণ বিষয়ে সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ নির্ধারণের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফুটবল খেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের স্থায়ী বেতন কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘‘হামজা চৌধুরীসহ অন্যান্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করছে। এই প্রবণতা দেশের ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধিশালী করবে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের লক্ষ্য, এবং বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী বেতন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।’’
ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ভেন্যু ঘাটতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, ‘‘গ্রামীণ এলাকায় ফুটবল মাঠ যথেষ্ট থাকলেও, ফিফার অনুদানের মাধ্যমে বাফুফে যে নির্দিষ্ট মাঠগুলোর বরাদ্দ চেয়েছে, সেগুলো চুক্তির মাধ্যমে সরকারি হস্তান্তর করা হবে।’’ কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম এই বরাদ্দ প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘‘প্রতিমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, উল্লেখিত স্টেডিয়ামগুলো ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের সম্মানিত পরিচালকগণও এমওইউ দ্রুত সাইন করার নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি ভেন্যু পেলে ফিফার তহবিল ব্যবহার করে মাঠগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা ফুটবলের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।’’
অন্যদিকে, সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী জানান, ‘‘ঢাকার মধ্যে যেখানে সম্ভব মাঠ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এবং পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে ফুটসালের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপনের জন্য সরকার একটি জায়গা দিয়েছে, যেখানে আনুমানিক আট কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ফেডারেশনকে প্রতীকী মূল্যে জায়গা প্রদানের অনুরোধ বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে।’’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মাঠের অভাবে জাতীয় দলের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিতভাবে পরিচালনা করতে বাধ্য। নতুন ভেন্যু বরাদ্দ এবং সরকারি সহায়তা বাস্তবায়িত হলে, দেশের ফুটবল খেলার পরিকাঠামো এবং খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী মাঠ ও চুক্তিভিত্তিক বেতন কাঠামো জাতীয় দলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থান মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, ফিফার তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ উন্নয়নের সুযোগ স্থানীয় যুব খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে এবং ফুটবলকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।
বৈঠকে সরকারের সঙ্গে বাফুফের সমন্বিত পরিকল্পনা ফুটবল খেলার পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, খেলোয়াড় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। আগামী মাসগুলোতে মাঠ হস্তান্তর ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, দেশের ফুটবল খেলার পরিবেশ এবং জাতীয় দলের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


