মাদ্রাসা ক্রিকেট চালু, আসিফ আকবরের নতুন দায়িত্বে বিসিবি তৃণমূল বিস্তারের উদ্যোগ

মাদ্রাসা ক্রিকেট চালু, আসিফ আকবরের নতুন দায়িত্বে বিসিবি তৃণমূল বিস্তারের উদ্যোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মাদ্রাসা পর্যায়ের ক্রিকেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বিসিবির নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক আসিফ আকবর সোমবার জানান, আগামী মাস থেকে দেশের মাদ্রাসা পর্যায়ে ক্রিকেট কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি এই ঘোষণা দেন গণমাধ্যমের এক পডকাস্টে, যেখানে জানান, স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালু করার পরই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটের সূচনা হবে।

আসিফ আকবর বলেন, “আমাদের কাছে এমন খেলোয়াড় ও কোচ রয়েছেন যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের মতো দেশে দেখবেন মাদ্রাসা থেকে খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমরা চাই ক্রিকেট বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে, যাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পড়াশোনা বিবেচনা করে কার্যক্রমের সূচি নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত বছরের অক্টোবরে ঘোষণা করেছিলেন, নতুন পরিচালনা পর্ষদ দেশের মাদ্রাসা পর্যায়ে ক্রিকেট কার্যক্রম শুরু করবে। নতুন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আসিফ আকবরের দায়িত্ব হলো তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটকে কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা।

আসিফ আকবরের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষিতে গত বছর নভেম্বরে বিসিবি নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তদন্তের জন্য গঠন করা কমিটি তিন মাস ধরে কাজ করে এবং সম্প্রতি বিসিবি মঞ্জুকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, “একটা বিচার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এখন বিসিবি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। যেহেতু মামলা হয়নি, এটি কোর্টের বিষয়।” তিনি বলেন, এই ধরনের ঝামেলা ও বিতর্ক বোর্ড পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা আগে থেকেই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

এছাড়া, আসিফ আকবর সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সাকিবের ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ।

বিসিবির নতুন উদ্যোগটি দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদ্রাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালুর মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই কার্যক্রম বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা উদ্ভাবন এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আশা করছে, স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি, জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রতিভা চিহ্নিত ও উন্নয়ন করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ