নরওয়ের ছোট শহরের ক্লাব বোডো/গ্লিমটের ইউরোপিয়ান রোমাঞ্চ

নরওয়ের ছোট শহরের ক্লাব বোডো/গ্লিমটের ইউরোপিয়ান রোমাঞ্চ

 

ক্রীড়া ডেস্ক

নরওয়ের ছোট শহর বোডোর ক্লাব বোডো/গ্লিমট ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে একের পর এক চমক সৃষ্টি করছে। গ্রুপ পর্বে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে পরাজিত করা এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র করা এই দলটির খেলার ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নক আউট পর্বে (প্লে অফ) বোডো/গ্লিমট ইতালির প্রথিতযশা ক্লাব ইন্টার মিলানকে পরাজিত করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত প্লে অফের দ্বিতীয় লেগে ইন্টার মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে জয়ী হয় নরওজিয়ান দলটি। প্রথম লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জয়ী হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ ষোলায় জায়গা করে নিয়েছে বোডো।

এই জয়ের নায়ক ছিলেন বোডোর ফরোয়ার্ড ও সাবেক এসি মিলান খেলোয়াড় পিটার হাউগে। নিজের পুরোনো ক্লাবের মাঠে ফিরে হাউগে একটি গোল করা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ এসিস্ট করেন। এই গোল এবং এসিস্টের মাধ্যমে বোডো/গ্লিমটের জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খেলায় আংশিকভাবে প্রাধান্য ছিল ইন্টার মিলানের। পুরো ৯০ মিনিটে তারা ৩৩ বার গোলের দিকে শট নিয়েছিল, যেখানে বোডো মাত্র ৭টি শট নেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। এছাড়া ইন্টার মিলান ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও খেলায় বিজয় এসেছে বোডোর রক্ষণ ও দ্রুত আক্রমণ সংগঠনের কারণে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইন্টার মিলান একাধিকবার বোডোর রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। গোলরক্ষক হাইকিন ফেডেরিকো ডিমার্কো ও মার্কুস থুরামের শট প্রতিহত করেন। নরওজিয়ানদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ৩৬ মিনিটে, কিন্তু ইয়ান সোমার সহজ শটটি আটকান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলায় নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ৫৮তম মিনিটে ইন্টার মিলান ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে বোডোর হাউগে সফল শট নেন এবং ইয়ান সোমারের প্রথমবারের প্রতিরোধের পর দ্বিতীয়বার গোল করেন। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে কাউন্টার এট্যাক থেকে বোডো ব্যবধান দ্বিগুণ করে। হাউগের ডান প্রান্ত ক্রস থেকে ইভজেন গোল করে বোডোর জয়কে আরও দৃঢ় করেন।

৭৬ মিনিটে ইন্টার মিলানের বাস্তোনি একটি গোল করেন, যা ব্যবধান কমায়। তবে বোডো/গ্লিমট রক্ষণে শক্ত অবস্থান ধরে রাখে এবং ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে শেষ হয়। এই জয় ৪০ হাজার জনসংখ্যার শহরের ক্লাবকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে নতুন পরিচয় দিয়েছে।

বোডো/গ্লিমটের এই জয় কেবল দলটির জন্য নয়, নরওয়েজিয়ান ফুটবলের জন্যও উল্লেখযোগ্য। ছোট শহরের ক্লাবের বড় ক্লাবের বিপক্ষে এই সাফল্য ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হওয়ায় বোডো/গ্লিমটের সামনে এখন আরও বড় প্রতিযোগিতার সুযোগ অপেক্ষা করছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ