বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে। তার নিজস্ব আবেদন এবং সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার একটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ প্রকাশিত হওয়া সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখা-১–এর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আলী হোসেন ফকিরকে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আইজিপি বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর এই নিয়োগ বাস্তবায়িত হয়। চুক্তি অনুযায়ী তার মেয়াদ আরও প্রায় ৯ মাস পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে তার নিজস্ব আবেদনের ভিত্তিতে এবং সরকারের অনুমোদনে তার নিয়োগ বাতিল করা হলো।
আইজিপি পদে পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত দেশের পুলিশ বাহিনীতে নেতৃত্বগত পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইজিপি পদে পরিবর্তন প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
এদিকে, আইজিপি বাহারুল আলমের মেয়াদ বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উভয়ই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেছে। এই প্রক্রিয়া সরকারিভাবে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্ধারিত পদোন্নতির মাধ্যমে আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইজিপি পদে এই পরিবর্তন দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী নিয়োগে চুক্তিভিত্তিক সময়সীমার বাকি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারের প্রশাসনিক নীতি এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বে এই রদবদল আগামী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কর্মসম্পাদনকে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


