ধর্ম ডেস্ক
রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশে এ বছরও ফিতরার হার স্থির করা হয়েছে। দেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে গঠিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি ১৪৪৭ হিজরি সনের জন্য প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ফিতরার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। অনুযায়ী, প্রতিজন মুসলিমের জন্য সর্বনিম্ন ফিতরার হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, গত বছরও (২০২৫ সালে) একই হার প্রযোজ্য ছিল।
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই হার চূড়ান্ত করা হয়। সভার আয়োজক কমিটি ফিতরার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ইসলামী আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সময় তারা দেশের মুসলিম সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পর্যালোচনা করে ফিতরার উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
কমিটির সভাপতির তথ্য অনুযায়ী, ফিতরা নির্ধারণে সামাজিক ও আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে দেশের নিম্নবিত্ত মুসলিমদের জন্যও ফিতরা প্রদান সম্ভব হয়। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা রাখা হয়েছে যাতে উচ্ছে আয় সম্পন্ন মুসলিমরা ইচ্ছামত বেশি পরিমাণে ফিতরা প্রদান করতে পারেন।
ফিতরা ইসলামে রমজান মাসে দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য প্রদান করা একটি আবশ্যিক চ্যারিটি। এটি মুসলিমদের ঈমান ও সামাজিক দায়িত্বের একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফিতরার মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী খাদ্যসহায়তা পান, যা তাদের রমজান মাসের ইবাদত ও সামাজিক উপকারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এ বছর ফিতরার হার নির্ধারণের ফলে দেশের সকল মুসলিম সম্প্রদায়কে রমজান মাসে নির্ধারিত ফিতরা প্রদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদানের জন্য স্থানীয় মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ববদ্ধ করা হয়েছে, যাতে কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত সদস্যরা সময়মতো সহায়তা পায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফিতরা নির্ধারণে সামাজিক সাম্য ও ন্যায়সঙ্গত দিকটি প্রধানত লক্ষ্য করা হয়। কমিটির এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফিতরা প্রদান প্রথার ধারাবাহিকতা ও নির্ধারিত হার অনুসরণের ফলে সমাজে আর্থ-সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি রমজান মাসের ইবাদত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এই হারের প্রতি সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


