বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘিরে সৌদি আরব সফরকালে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে (২৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনুষ্ঠিত ওআইসি-এর নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সামনে রেখে সফরকালে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) বিশ্ব সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অঙ্গ, যেখানে সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেন। প্রতি বছর একজন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সভাপতির দায়িত্বের মধ্যে অধিবেশন পরিচালনা, আলোচ্যসূচি নির্ধারণে সমন্বয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা জোরদার করা অন্তর্ভুক্ত। এ পদে নির্বাচিত হওয়া সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ অতীতে একবার সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে। দীর্ঘ সময় পর পুনরায় প্রার্থী হওয়াকে কূটনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রা প্রার্থিতার পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ বরাবরই সমর্থন দিয়ে আসছে। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কোনো সংঘাত পরিস্থিতি অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য অকল্যাণকর। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংলাপের পক্ষে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করা গেলে তা বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক জোট ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও সমানভাবে প্রয়োজন হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থিতা ঘিরে আগামী মাসগুলোতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করা হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতিসংঘের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।


