পাকিস্তানের আত্মরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, আফগানিস্তান-সংঘাত আরও তীব্র

পাকিস্তানের আত্মরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, আফগানিস্তান-সংঘাত আরও তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’কে সমর্থন জানিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য জানান।

হুকারের এক্স পোস্টে বলা হয়, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং ‘পাকিস্তান ও তালেবানের সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা’ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর ‘গভীর নজর রাখছে’ এবং তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানাচ্ছে।

এদিকে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এক সাংবাদিক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে তিনি ‘দারুণ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সংঘাত দিন দিন তীব্র রূপ ধারণ করছে। দুই দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান দাবি করছে, সংঘাতে ৮৯টি সেনা চৌকি, ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। একই সময়, আফগান হামলায় পাকিস্তানেও প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি সার্জিক্যাল অভিযান পরিচালনা করে আফগানিস্তানে। অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, হামলায় বহু তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে এবং সেনা চৌকি, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দেশকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তালেবান সরকারের যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় ইসলামাবাদ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা দেশের রক্ষা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, আফগান সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত পাকিস্তানকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ‘আরও দৃঢ় ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া’ পাবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে এই ধরনের সামরিক অভিযানের ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল হতে পারে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সংঘাত অঞ্চলের সাধারণ জনগণের ওপর মানবিক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।

এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা কমানোর জন্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ ও তালেবান সরকারের উদ্ভুত চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক সংঘাতকে আরও জটিল রূপ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ