সারাদেশ ডেস্ক
পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দাদী ও তার নাতনিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে ৬৫ বছর বয়সী দাদী সুফিয়া খাতুনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তারকে অপহরণ করে। পরে নাতনির মরদেহ বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী সরিষার ক্ষেতে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে স্থানীয়রা বাড়ির মধ্যে কান্নার আওয়াজ শুনে বাইরে বের হন। কিছু সময় পর কান্নার শব্দ থেমে গেলে তারা বাড়িতে ফিরে আসেন। সকালে বাড়ির উঠানে দাদীর রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর নাতনিকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির কাছাকাছি সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ সকালেই মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। কারা এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।”
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নাতনিকে অপহরণের সময় বাধা সৃষ্টি করার কারণে দাদীকে হত্যা করা হয়। নাতনিকে অপহরণ করার পর ধর্ষণ এবং হত্যা করে সরিষার ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশি দল পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ এবং বাড়ি থেকে দাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, এই হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে বাড়ির আশপাশে কাঁদার আওয়াজে এলাকার মানুষ রাতভর আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকায় সিসিটিভি ফিটিং ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করেছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, অস্ত্রের ধরন এবং হত্যাকারীর পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয়দের সহায়তা ও যেকোনো তথ্যের জন্য হটলাইন চালু রেখেছে।
এই ঘটনার পর প্রশাসন এবং পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কোনো ত্রুটি না ঘটাতে দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।


