ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, তেহরানে হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, তেহরানে হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের একজন কর্মকর্তা, যিনি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনিকে রাজধানী তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার সঙ্গে যুক্তদের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এটিকে ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরানেও এই হামলার প্রভাব স্পষ্ট হয়; ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। নিরাপত্তা ও কর্মকর্তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার কারণে অগোচরে সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যাতে তার জীবনহানির ঝুঁকি এড়ানো যায়।

ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একটি বিবৃতিতে জানান, ইসরায়েলজুড়ে বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এ মুহূর্তে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিবেশে সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কতা জোরদার করেছেন।

ইরানের সাধারণ জনগণও হামলার খবর শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, তেহরানসহ দেশের অন্যান্য শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই হামলার প্রকৃত প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্র পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং পারস্পরিক উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

তেহরান পরিস্থিতি বিবেচনায়, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খামেনির নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখন ইরানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক সহিংসতা বা সামরিক সংঘাতের যে কোনো ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যেই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ