বিনোদন ডেস্ক
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বাদ আসর তার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়। তবে দাফনের সময়ে যাহের আলভী উপস্থিত ছিলেন না।
দাফনের সময় গ্রামের পরিবেশ শোকমগ্ন ছিল। বিকেলে রাজধানী থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি এবং স্থানীয়দের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ইকরার একমাত্র সন্তান হারানো পরিবারের সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, ইকরা ছোটবেলা থেকে শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং এলাকায় সকলের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখতেন।
ইকরার বাবা দাফনের আগে সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী যাহের আলভী ও তার মায়ের দীর্ঘদিনের মানসিক প্ররোচনা এবং নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণার শিকার ছিলেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রায় ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইকরা বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, যাহের আলভীর আচরণ ও সম্পর্কের অবহেলা এই করুণ পরিণতির মূল কারণ।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় যাহের আলভী নেপালে একটি নাটকের শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
ইকরার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। চ্যাটে ইকরা স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে চরম মানসিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইকরার মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর ময়মনসিংহের রান্দিয়া গ্রামসহ দেশব্যাপী শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এবং ভক্তরা দাবি করছেন, যদি কারও প্ররোচনা বা নির্যাতন এ ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে সংশ্লিষ্টকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মানসিক চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে সঠিক কারণ উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


