বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় চন্দ্রনাথের গাড়িচালক ও আরও এক সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথ গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় দোহারিয়া এলাকায় একটি চার চাকার গাড়ি তার গতিপথ রোধ করে। একই সময়ে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের মাথা লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক গাড়িটি চালিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা রাতেই ঘটনাস্থল ও ব্যবহৃত গাড়ি থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছেন।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিলিগুড়ির নিবন্ধিত ওই গাড়িটির নম্বর প্লেট ভুয়া ছিল। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, দুদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আইন হাতে তুলে না নিয়ে আমরা প্রশাসনিকভাবে এর বিচার নিশ্চিত করব। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দল সর্বাত্মকভাবে রয়েছে।”

বৃহস্পতিবার বারাসাত জেলা সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ