মাথাপিছু আয় ২,৭৬৯ ডলার, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে

মাথাপিছু আয় ২,৭৬৯ ডলার, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার পৌঁছেছে। একইসঙ্গে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার মেগা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২,৭৬৯ ডলার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও স্পোর্টস ইকোনমিতে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার নির্দিষ্ট কোনো খাতের ওপর একপাশে নির্ভর করছে না। অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো– বেকারত্ব নিরসন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া। শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশি ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তাদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করা যায়। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব পদক্ষেপের বেশ কিছু বাস্তবায়ন চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই শুরু হয়েছে, বাকিগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগগুলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবে এবং ২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ