গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী, কোনো নিয়ন্ত্রণ করা হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী, কোনো নিয়ন্ত্রণ করা হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় পূর্ণ বিশ্বাসী এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত একটি স্থায়ী নীতি। অতীতের নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ সংবাদ মাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সোমবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

মুক্ত সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি ও অপতথ্য প্রতিরোধ
সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসনে সাংবাদিকদের ভয় পাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ডে সরকারের এই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতীতে যেভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। সংবাদমাধ্যমকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।”

একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য বা ‘ডিজইনফরমেশন’ ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং অনলাইনে অপপ্রচারের মাধ্যমে চরিত্রহনন রোধে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নির্ভুল সংবাদ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য।

নীতিমালা সংশোধন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
গণমাধ্যমের শৃঙ্খলায় আইনি কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের আইপিটিভি নীতিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এবং আইপিটিভি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকার কোনো কঠোরতা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়।

সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান। নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বিজ্ঞাপন বণ্টনে স্বচ্ছতা আসবে এবং কোনো গণমাধ্যম বঞ্চিত হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পেশাগত মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা
সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা এবং নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনায় রয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এছাড়া সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানের অপর্যাপ্ততা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য বর্তমান সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত নগণ্য। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কেন্দ্রটিকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী পরিশেষে একটি আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ