দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ২৪ হাজার

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ২৪ হাজার

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডেস্ক

দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ নিয়ে গত এক মাসের কিছু বেশি সময়ে (১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল) দেশে হামে ও হামের উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩৭ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১৮৩ জন। অর্থাৎ, এই ৩-দিন সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২২০।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১৭০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১৭৪ জনের দেহে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৭৭৬ জনে। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৭ জন রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আক্রান্তদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সরকারি হিসাব মতে, গত এক মাসে ১৬ হাজার ১৭২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত এক মাসে শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই ১০ হাজার ৯১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৪১ জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার এবং ঝুঁকি উভয়ই আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করা এই রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হলেও পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার এবং আক্রান্তদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ, চোখ লাল হওয়া এবং কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ