জাতীয় ডেস্ক
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৯১১ জন নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধানের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির সূচনালগ্নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও উপস্থিত জনতা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারিবারিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে গত ১০ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছিল। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের ১৪টি উপজেলায় মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
এই কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কার্ডটি পরিবারের মা অথবা নারী অভিভাবকের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সরাসরি অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রভাব:
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানের এই ত্রাণ বা সহায়তাভিত্তিক কার্ডটিকে দীর্ঘমেয়াদী একটি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ বা সামাজিক সুরক্ষা পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে নাগরিকরা একক কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া প্রান্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি কেবল সাময়িক অর্থ সাহায্য নয়, বরং ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থদের চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
বগুড়ার এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের গতিশীলতা ও অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


