অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই দর নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। আজ শনিবার থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এর আগে এই মানের স্বর্ণের দাম আরও বেশি ছিল, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ছিল একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২০ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ৯৪ হাজার ৫২১ টাকায়। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিয়ের মৌসুম এবং উৎসবের আগে দাম কিছুটা কমায় বাজারে কেনাবেচার গতি ফিরতে পারে।
তবে বাজুস নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গেই চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য সীমাবদ্ধ নয়। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গয়নার নকশা এবং কারুকাজের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির হারে পরিবর্তন আসতে পারে, যা সম্পূর্ণভাবে গ্রাহক ও বিক্রেতার আলোচনার ওপর নির্ভর করে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ক্যাটাগরি ভেদে রুপার দামও ভরিতে কমেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৭১৫ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ২,৫৯৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ২,২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম হবে ১,৬৬৮ টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব সরাসরি জুয়েলারি খাতে পড়ে। বাংলাদেশে স্বর্ণের খনি না থাকায় আমদানি এবং রিসাইকেল স্বর্ণের ওপর বাজার নির্ভরশীল। ফলে বিশ্ববাজারে সামান্য পরিবর্তন এলেই বাজুসকে দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়। গত কয়েক মাস ধরেই স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যেখানে দাম বারবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছিল। আজকের এই মূল্য হ্রাস সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজুস সাধারণ ক্রেতাদের অনুমোদিত ডিলার বা জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনার পরামর্শ দিয়েছে এবং ক্রয় করার সময় হলমার্ক যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে দাম পুনরায় পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।


