ক্রীড়া ডেস্ক
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গুজরাটকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে মাঠ ছাড়ে বিরাট কোহলির দল। দলের এই জয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখে ব্যাটে ঝড় তুলেছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। ৪৪ বলে ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে কেবল দলকে জয়ই উপহার দেননি, একই সঙ্গে একাধিক বিশ্বরেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন এই তারকা ক্রিকেটার।
ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা গুজরাট টাইটান্স চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার চেষ্টা করলেও বেঙ্গালুরুর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও পরবর্তীকালে কোহলির ব্যাটিং তাণ্ডবে তারা ম্লান হয়ে যায়। ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো কোহলির ৮১ রানের ইনিংসটি ছিল এক কথায় অনবদ্য। এই ইনিংস খেলার পথেই তিনি আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৮০০টি চার মারার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদার করা দ্বিতীয় ওভারেই বাউন্ডারি মেরে এই রেকর্ডের সূচনা করেন তিনি। বর্তমানে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি চারের মালিকদের তালিকায় কোহলির পেছনে রয়েছেন শিখর ধাওয়ান (৭৬৮টি), ডেভিড ওয়ার্নার (৬৬৩টি) এবং রোহিত শর্মা (৬৫৩টি)।
বাউন্ডারির পাশাপাশি ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রেও এদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের বলে ইনিংসের অষ্টম ওভারে একটি দর্শনীয় ছক্কা মেরে আইপিএল ক্যারিয়ারে ৩০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। আইপিএলে এর আগে কেবল ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা ৩০০ বা তার বেশি ছক্কা মারার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তবে কোহলির এই রেকর্ডের বিশেষত্ব হলো, তিনি আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের হয়ে ৩০০টি ছক্কা হাঁকানোর কৃতিত্ব দেখালেন। ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী আসর থেকে অদ্যাবধি তিনি রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন, যা ক্রিকেটের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি সংস্করণে আনুগত্যের এক অনন্য উদাহরণ।
বিরাট কোহলির রেকর্ডের যাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। ব্যক্তিগত ৪৯ রানে পৌঁছানো মাত্রই তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০ হাজার রান করার ইতিহাস গড়েন। ভারতের মাটিতে ২৯১টি ম্যাচ খেলে তিনি এই বিশাল সংগ্রহ অর্জন করেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রোহিত শর্মা ৩১৯ ম্যাচে নিজ দেশে করেছেন ৮ হাজার ৫৬৩ রান। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সমন্বয়ে গড়া এই রেকর্ডটি প্রমাণ করে যে, ঘরের মাঠে কোহলির ধারাবাহিকতা কতটা অপ্রতিরোধ্য।
আইপিএলের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় আগে থেকেই শীর্ষে অবস্থান করছিলেন কোহলি। তবে শুক্রবারের এই ইনিংসের পর তিনি আরও একটি বড় মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ১১ রান। একই সঙ্গে চলতি আসরেও রান সংগ্রাহকদের তালিকায় অভিষেক শর্মাকে টপকে শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। বর্তমানে ৩২৮ রান নিয়ে অরেঞ্জ ক্যাপের দাবিদার এখন এই প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক।
বিশ্লেষকদের মতে, কোহলির এই অতিমানবীয় ফর্ম কেবল বেঙ্গালুরুর জন্যই স্বস্তিদায়ক নয়, বরং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটি ভারতীয় দলের জন্যও বড় ইতিবাচক সংকেত। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার সাথে তার আগ্রাসী ব্যাটিং ভঙ্গি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। বিরাটের এই রেকর্ডময় রাতে বেঙ্গালুরুর জয় টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলেও তাদের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


