স্পোর্টস ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচগুলো দর্শকহীন গ্যালারিতে আয়োজনের যে সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিয়েছিল, তাতে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামী ৩ মে লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য আসরের মেগা ফাইনালে দর্শকদের উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচ এবং প্লে-অফ রাউন্ডের খেলাগুলো আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দর্শকশূন্য মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিগের জৌলুস রক্ষা এবং সমর্থকদের প্রবল আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেবল ফাইনাল ম্যাচের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত করার অনুমতি প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পিএসএলের ১১তম আসরটি পাকিস্তানের ছয়টি ভেন্যুতে ৪৪টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সরকার দেশজুড়ে কঠোর মিতব্যয়ী নীতি গ্রহণ করে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে টুর্নামেন্টের পরিধি কমিয়ে কেবল লাহোর ও করাচিতে সীমাবদ্ধ করা হয়। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট ব্যবহারের সময় গ্যালারির সাধারণ সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যয় সংকোচনের উদ্দেশ্যে দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
পিসিবির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দলগুলোর মালিকপক্ষের দাবি ছিল, গ্যালারিতে দর্শক না থাকলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক আবেদন যেমন কমে, তেমনি খেলোয়াড়দের মনোবলও বাধাগ্রস্ত হয়। লাহোর কালান্দার্সের স্বত্বাধিকারী আতিফ রানা ও করাচি কিংসের মালিক সালমান ইকবালসহ অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, পিএসএল কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয় বরং এটি পাকিস্তানের ক্রিকেটের একটি উৎসব, যা দর্শকদের উপস্থিতি ছাড়া প্রাণহীন।
পিসিবি সভাপতির ঘোষণা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জাতীয় পর্যায়ে চলমান মিতব্যয়ী পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও ক্রিকেটের আবেগ ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে আসরের অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় নীতি বহাল থাকবে। আজ ও আগামীকাল চার ম্যাচের মাধ্যমে লিগ পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর রাউন্ড শেষে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শিরোপানির্ধারণী লড়াইয়ের মাধ্যমে পর্দা নামবে এবারের আসরের।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নমনীয় সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের শেষলগ্নে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। তবে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের টি-টোয়েন্টি লিগ যেভাবে দর্শকহীন আয়োজনের মুখে পড়ল, তা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া অর্থনীতিতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবেরই প্রতিফলন। ফাইনালে দর্শকদের প্রবেশের অনুমতি মিললেও টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বাড়তি খরচ কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে পিসিবি থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা দ্রুতই প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


