জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় এবং চলতি অর্থবছরের দশম এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আজকের এই সভায় দেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের সভার আলোচ্যসূচিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগের অধীনে মোট ১১টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ৪টি এবং কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে ২টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলোর আর্থিক সংশ্লেষ এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
নিয়মিত আলোচ্যসূচির বাইরেও পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিজস্ব এখতিয়ারে ইতিপূর্বে অনুমোদিত আরও ৩৩টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রকল্প আজকের সভায় একনেকের অবগতির জন্য পেশ করা হবে। এর ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক গতিপ্রকৃতি এবং অগ্রাধিকার সম্পর্কে নীতিনির্ধারকরা একটি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করবেন।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় ১৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে সবগুলোর ওপর আলোচনা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তখন আটটি প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনার পর ছয়টি অনুমোদিত হয় এবং বাকিগুলো পরবর্তী সভার জন্য স্থগিত রাখা হয়। স্থগিত থাকা সেই অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোসহ নতুন প্রস্তাবনাগুলোই আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে থাকছে।
আজকের এই একনেক বৈঠকের একটি বিশেষ দিক হলো এর ভেন্যু পরিবর্তন। দীর্ঘকাল ধরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠানের রেওয়াজ থাকলেও এবার তা ভেঙে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কেন্দ্রিক কর্মব্যস্ততার কথা বিবেচনায় রেখে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো এবং কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কৃষি ও পানিসম্পদ বিভাগের প্রকল্পগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামো বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পগুলো পরিবহন ব্যবস্থা এবং যাতায়াত সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজকের সভায় প্রকল্পগুলোর ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হতে পারে। সাধারণত একনেক সভায় বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়। বৈঠকের পর অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং বরাদ্দের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।


