মানহানির মামলায় জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার আগাম জামিন

মানহানির মামলায় জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার আগাম জামিন

আইন ও আদালত ডেস্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা। উচ্চ আদালত শুনানি শেষে তাকে আগামী আট সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আমির হামজার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিনের এই আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মামলায় নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে আলোচনার সময় আমির হামজা উক্ত বক্তব্যের সূত্র ধরে মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন।

বাদীর দাবি, এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি একজন সম্মানিত ব্যক্তির মানহানি ঘটিয়েছে। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, আমির হামজা জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক কথা বলে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ এবং ৫০৪ ধারায় এই অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রথমে বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন। তবে শুনানির নির্ধারিত দিনে আমির হামজা আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সুরক্ষা পেতে তিনি উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত আট সপ্তাহের এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করায় বর্তমান মেয়াদে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে হবে।

রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্য এবং পরিচিত ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু হওয়ার বিষয়টি কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ব্যক্তিগত আক্রমণের এই প্রবণতাটি আইনি পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপাতত গ্রেপ্তারি এড়াতে পারলেও মামলার মূল বিচারিক প্রক্রিয়া যথানিয়মে চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক বিদ্যমান। তবে এবারের মামলার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেওয়া মন্তব্যটি সরাসরি মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিষয়টি আইনিভাবে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিম্ন আদালতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ