টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৭৪

টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৭৪

আইন আদালত ডেস্ক

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদক ও অপরাধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাজীর মাজার বস্তিতে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। প্রায় ৬ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানে মাদক কেনাবেচা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোররাত পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে জিএমপির একটি বিশাল দল বস্তিটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। টঙ্গীর এই এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে মাদক ব্যবসার জন্য কুখ্যাত হওয়ায় অভিযানটি অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা বস্তির প্রতিটি অলিগলিতে তল্লাশি চালান। ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে সন্দেহভাজন এবং সরাসরি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি জানান, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত মাদকসেবী এবং ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা রয়েছে। অভিযানের সময় তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য ছাড়াও মাদক বিক্রির বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, হাজীর মাজার বস্তি এলাকাটি ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনঘনত্বের কারণে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। এর আগেও এখানে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও মাদক সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নির্মূলে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আটককৃতদের নাম-ঠিকানা ও অপরাধের পূর্ব ইতিহাস যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দৃঢ়তার সাথে বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছি। বিশেষ করে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুব সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।”

এদিকে, টঙ্গীর সাধারণ বাসিন্দারা পুলিশের এই বড় মাপের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, হাজীর মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেটের কারণে টঙ্গী ও আবদুল্লাহপুর এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে রাতের বেলা পথচারীদের ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের পেছনে এই মাদকের স্পটটির প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকলে এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দ্রুত বিচার আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গাজীপুর মহানগর এলাকায় মাদকের রুটগুলো চিহ্নিত করে এর মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপ মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ