ফেনীতে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ড: সহকারী লোকোমাস্টার দগ্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ফেনীতে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ড: সহকারী লোকোমাস্টার দগ্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সারাদেশ ডেস্ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ফেনী রেলস্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটি স্টেশনে আটকা পড়ায় প্রায় ৮০০ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেনী রেলস্টেশনে প্রবেশ করে। এ সময় ইঞ্জিনের অভ্যন্তরে থাকা ‘ট্যাবলেট কভার’ (চেম্বারের ঢাকনা) থেকে হঠাৎ করে প্রচুর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। দায়িত্বরত সহকারী লোকোমাস্টার মোহাম্মদ কাওসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইঞ্জিনের কাছে গেলে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আক্রান্ত হন। এতে তাঁর মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মাদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ধোঁয়ার কারণে ওই রেলকর্মীর শ্বাসনালিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেনটি ফেনী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আটকা পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকায় গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন শত শত যাত্রী। সাধারণ যাত্রীরা জানান, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে আটকে থাকায় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যাত্রীদের অনেকে জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং ট্রেনটি কখন ছাড়বে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় তাঁরা বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ফেনী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামতের জন্য লাকসাম থেকে একটি রিলিফ ট্রেন বা বিকল্প ইঞ্জিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সেটি এসে পৌঁছালে ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধারণের জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া ফেনী থেকে ঢাকামুখী যে যাত্রীরা এই ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই টিকিট ফেরত দিয়ে সড়কপথে রওনা হয়েছেন।

রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, চট্টলা এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে আটকা থাকলেও স্টেশনের অন্যান্য লুপ লাইন সচল রয়েছে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-নোয়াখালী রুটের অন্যান্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। তবে ইঞ্জিনের এই ত্রুটি কেন দেখা দিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ওভারহিটিং বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হতে পারে।

দুপুর নাগাদ বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছালে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত ছিল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়ে রেল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেনটি সচল করতে কারিগরি দল কাজ করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ