জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে সারা দেশে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের ২৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ও আধুনিক নাগরিক সুবিধাগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশব্যাপী নগরায়ন ও উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। সরকার বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা হ্রাসে কাজ করছে।
সংসদনেতা তাঁর বক্তব্যে বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবাগুলোর জন্য সাধারণ মানুষকে যেন রাজধানীতে আসতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ড বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করার ফলে বাজারে চাহিদার ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল থাকবে। এটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই কার্ড একটি শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে।
রাজধানী ঢাকা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে সংসদনেতা বলেন, ঢাকাকে একটি ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ বা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দুই সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, মশা নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে রুটিন কাজের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন নগরী গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে।
পরিবেশগত উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে। নগরীর তাপমাত্রা কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিটি খালি জায়গাকে সবুজে পরিণত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের মিরপুর ১২ থেকে ডিওএইচএস পর্যন্ত এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিচের খালি অংশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
বক্তব্যের সমাপ্তিতে সংসদনেতা বলেন, মেগাপ্রকল্পগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাজধানীর সৌন্দর্য বজায় রাখতে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং নাগরিক সেবাগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ঢাকার ওপর জনচাপ হ্রাস পাবে এবং শহরটি বসবাসের আরও উপযোগী হয়ে উঠবে। একইসাথে প্রান্তিক জনপদের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


