হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাসের বিশেষ সহযোগিতা দেবে সরকার

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাসের বিশেষ সহযোগিতা দেবে সরকার

জাতীয় সংসদ ডেস্ক

অকাল বন্যা ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে তিন মাস মেয়াদী বিশেষ সহযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীকে পুনর্বাসন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার সংসদীয় অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান হাওর অঞ্চলের বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি পৃথক ‘হাওর মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩৫টি জেলা হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যা ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। বর্তমানে চলমান অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বছরের একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল এই জনপদ দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংসদ সদস্যের প্রস্তাব ও হাওরের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, সরকার ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চাল, নগদ অর্থ ও কৃষি উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। তিন মাস মেয়াদী এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো কৃষকদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য তাদের প্রস্তুত করা। এছাড়া হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় হাওর বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতি বছর অকাল বন্যা বা আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়। পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাবটি প্রশাসনিক ও নীতিগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন হলেও, তাৎক্ষণিক মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের এই তিন মাসের সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কেবল ত্রাণ নয়, বরং টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং আগাম বন্যা সহনশীল জাতের ধান চাষ জনপ্রিয় করা গেলে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সরাসরি তাদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সংসদীয় আলোচনায় উঠে আসে যে, হাওর অঞ্চলের মানুষের দুর্গতি লাঘবে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ