সিলেট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মাজার জিয়ারত ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

সিলেট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মাজার জিয়ারত ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে পৌঁছেছেন। শনিবার (২ মে) সকালে তিনি সিলেটে পৌঁছান এবং দিনের শুরুতেই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁর সফরসূচি শুরু করেন। এই সফরে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রীড়া উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।

সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর একদিনের সরকারি সফরসূচিতে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরের চাঁদনিঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে হাতে নেওয়া একটি বৃহৎ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এই প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি সেখানে আয়োজিত একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেন এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সফরসূচির পরবর্তী ধাপে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার, সিলেট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষের জন্য এই সেন্টারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি চালু হলে প্রবাসীদের বিভিন্ন আইনি সহায়তা, রেমিট্যান্স সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্রদান সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সিলেটের নদী ও খালগুলো পুনর্খননের মাধ্যমে কৃষিজমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ত্বরান্বিত করার যে মহাপরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, এটি তারই অংশ। বাসিয়া খাল খনন করা হলে অত্র এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূল পর্যায়ে শিশু ও কিশোরদের মধ্য থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সরকারের এই উদ্যোগটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সরকারি সব কর্মসূচি শেষে বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী একটি দলীয় সভায় যোগ দেবেন। সেখানে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। সফর শেষে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম সরকারি সিলেট সফরকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রবাসীদের সেবার লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পগুলো সিলেটের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই উন্নয়নমুখী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ