বস্ত্র ও পাট ডেস্ক
দেশের বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো পুনরায় সচল করা এবং এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতি-নির্ধারকদের সাথে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বন্ধ কল-কারখানা চালুর আইনি ও কৌশলগত দিক এবং সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। এ ছাড়া শিল্প খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সূত্রমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ধারাবাহিক লোকসান এবং আধুনিকায়নের অভাবে কয়েক বছর আগে সরকারি সিদ্ধান্তে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হচ্ছে এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে পুনরায় সচল করা। আজকের বৈঠকে মূলত এসব স্থবির হয়ে পড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে উৎপাদনমুখী করা যায় এবং বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়, সেই রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বেসরকারি উদ্যোগে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ছয়টি সরকারি পাটকল চালু করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সেই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সব পাটকল হয় সরকারি উদ্যোগে চালু করা হবে অথবা ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজকের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পাট শিল্পের একটি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি পাটকলগুলো চালু করা গেলে কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি হবে না, বরং রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে শিল্প খাতে সংস্কারের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এখন বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর কারিগরি ও আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সেগুলোকে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিশেষ তদারকির আওতায় কাজ করছে। পরবর্তী ধাপে মন্ত্রিসভায় এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নির্দেশনা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাট খাতের আধুনিকায়ন জরুরি। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব মোড়ক এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে ঝিমিয়ে পড়া এই খাত পুনরায় দেশের জিডিপিতে শক্তিশালী অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আজকের এই বৈঠকটি সেই লক্ষ্যপূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী মাইলফলক হয়ে থাকবে।


