জাতীয় ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (ইকে ৫৮২) লিমনের কফিন রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। লিমনের মরদেহ গ্রহণ করতে আসা স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় এসময় বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিমনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। আজ মাগরিবের নামাজের পর সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
নিহত লিমনের বাবা ইলিয়াস হোসেন শোকে মুহ্যমান হয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে ছেলেকে এভাবে প্রাণ হারাতে হবে তা কখনো কল্পনাও করেননি। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন লিমনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। ছেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, লিমন তাকে চাকরি করতে নিষেধ করেছিলেন এবং পরিবারের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীকে এভাবে বিদেশে অকাল মৃত্যুবরণ করতে না হয়।
লিমনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে পুলিশ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহও স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজ সকালে বিমানবন্দরে লিমনের পরিবারের পাশে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। লিমনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার অপর শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় মিশনগুলো মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


