অর্থ ও পরিকল্পনা ডেস্ক
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, লিকেজ বন্ধ এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে গুণগত মান বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অর্থ ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার কথা জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন বাজেটের যথাযথ ব্যবহার এবং পাবলিক এক্সপেন্ডিচারের মান বজায় রাখা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক সময় কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে তারা তদারকি জোরদার করেন।
এবারের অধিবেশনে ডিসিরা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রকল্পের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে জেলা পর্যায়ে পৃথক কাঠামো তৈরির দাবি জানান তারা। সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
সরকারের উন্নয়ন দর্শনে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সেটিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কোনো প্রকল্প কতটুকু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে, তা যাচাই করেই অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করাও এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে এডিপি বাস্তবায়নে গতি আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রেখে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী চার দিনব্যাপী এই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি দেশের বাইরে থাকায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সম্মেলনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই বার্তা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে আরও দায়িত্বশীল করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


