পর্যটন শিল্পকে শিল্পে রূপান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা

পর্যটন শিল্পকে শিল্পে রূপান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

দেশের পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কক্সবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, ডিসি সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ। দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে থাকা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সংস্কার এবং নতুন করে পর্যটক আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মনপুরা ও নেত্রকোণাসহ কয়েকটি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায় থেকে আসা পর্যটন উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে মন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময় পর্যটন সীমিত রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আজ না হলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করছে।

দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও ও বগুড়াসহ বেশ কিছু বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় বিমানবন্দর চালুর পাশাপাশি একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পাইলট হওয়ার সুযোগ পায়।

পর্যটন খাতকে একটি শক্তিশালী শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই খাতকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিতে বেসরকারি বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে পর্যটন সুবিধার প্রসার ঘটলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অধিবেশনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ