সার্জিও রামোস ও বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের সেভিয়া ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু

সার্জিও রামোস ও বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের সেভিয়া ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল মাঠের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের রুখে দিতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই সার্জিও রামোস এবার হয়তো ডাগআউট বা মাঠ ছাড়িয়ে সরাসরি ক্লাবের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজের অবস্থান গড়তে যাচ্ছেন। স্পেনের জাতীয় দল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ডিফেন্ডার তার শৈশবের ক্লাব সেভিয়ার মালিকানা স্বত্ব কিনে নেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে আভাস পাওয়া গেছে। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এই সম্ভাব্য প্রশাসনিক পদক্ষেপে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রামোস কেবল একটি আলঙ্কারিক বা সম্মানসূচক পদ পাওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বরং ক্লাবের ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যেই তিনি এই পথে হাঁটছেন। তার এই পরিকল্পনায় ‘ফাইভ ইলেভেন ক্যাপিটাল’ নামক একটি প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী বড় ধরনের সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই টেকওভার বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সফল হলে রামোস ক্লাবের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সরাসরি অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সেভিয়ার সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর মঞ্চি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রামোসের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, রামোস তার প্রিয় ক্লাবে কোনো নামমাত্র পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে রাজি নন। তিনি ক্লাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজের ক্ষমতার প্রয়োগ দেখতে চান। মঞ্চি উল্লেখ করেন যে, রামোস ক্লাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে কি না তা নিশ্চিত না হলেও, তিনি এমন একটি অবস্থানে বসতে আগ্রহী যেখান থেকে ক্লাবের গতিপথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সার্জিও রামোসের এই বড় ধরনের প্রশাসনিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে মাঠের পারফরম্যান্সে সেভিয়ার শোচনীয় অবস্থা বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে। সোমবার রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ১-০ গোলের হারের পর ক্লাবটি এখন লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের ১৭তম স্থানে অবস্থান করছে। লিগের মাত্র ৪টি ম্যাচ বাকি থাকতে তারা অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট ওপরে রয়েছে। এমন এক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মালিকানা পরিবর্তনের এই গুঞ্জন ক্লাবের ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, ধুঁকতে থাকা সেভিয়াকে উদ্ধারে রামোসের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের প্রশাসনিক অংশগ্রহণ ক্লাবটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।

এদিকে, রামোসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে মঞ্চিরও সেভিয়ায় ফেরার আলোচনা শুরু হলেও তিনি এখনই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমান ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি এখন পর্যন্ত পুনরায় যোগ দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাননি। তবে রামোসের নেতৃত্বে নতুন কোনো বোর্ড গঠিত হলে দৃশ্যপটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মালিকানা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে সার্জিও রামোস পেশাদার ফুটবল থেকে তার আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন। ৩৯ বছর বয়সে এসে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সরাসরি করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে এমন রূপান্তর ক্রীড়াজগতে খুব একটা দেখা যায় না। সেভিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবের ক্রান্তিলগ্নে রামোসের এই বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণ সফল হলে তা ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে সফল হওয়া এই কিংবদন্তি বোর্ডরুমের লড়াইয়ে সেভিয়াকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ